
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম:
প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে খুলনায় নিজ মেয়েকে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। নিহত কিশোরীর নাম আরফানা হোসেন নির্জনা, বয়স ১৬। এ ঘটনায় পুলিশ তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান শনিবার ১১ জুলাই সকালে সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাত্র দেড় দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদ করেছে পুলিশ। গত ৮ জুলাই রাতে সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিকের ৩ নম্বর সড়কের পাশ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যম ও প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানা যায় নিহত সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা নির্জনা।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবে মেয়ের একাধিক প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারছিলেন না বাবা-মা। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বাবা আলিম হোসেন কাঠের লাঠি দিয়ে মেয়ের মাথায় আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নির্জনার।পরে ধরা না পড়ার উদ্দেশ্যে স্বামী-স্ত্রী মিলে লাশ একটি ছেঁড়া লুঙ্গি ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে আসেন। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর তিনি নিজেই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হন। বিচারক তার বক্তব্য রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।পুলিশ জানায়, পিবিআই ও সিআইডির সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বেতার বার্তা ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মামলার অপর আসামি বাবা আলিম হোসেন আকাশকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। তার গ্রেফতার হলে হত্যাকাণ্ডের আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। ছবি নিহত কিশোরী নির্জনার।
